উলিপুরের সাহেবের আলগাসহ ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে কয়েক হাজার তাঁত ঘিরে বড় একটি বাড়িভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। এসব তাঁতে মূলত গামছা, চাদর ও দৈনন্দিন ব্যবহারের কাপড় তৈরি হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় সুতা আসে বাইরের বাজার থেকে, ফলে দাম ও সরবরাহের ওঠানামায় তাঁতিরা অনিশ্চয়তায় পড়েন।
চরাঞ্চলে স্থানীয়ভাবে তুলা চাষ চালু হলে কৃষি ও তাঁতশিল্পের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র তৈরি হতে পারে। তুলা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়; বীজ থেকে তেল ও খৈল পাওয়া যায়; আর আঁশ থেকে সুতা তৈরি করে স্থানীয় তাঁতেই কাপড় বোনা সম্ভব। এতে কৃষকের আয় ও নারীদের বাড়িভিত্তিক কর্মসংস্থান—দুটিই বাড়তে পারে।
তাঁতিরা সাধারণত প্রক্রিয়াজাত তুলা কিনে পাঁচ থেকে ত্রিশ কাউন্ট পর্যন্ত সুতা ব্যবহার করেন। সময়মতো সুতা না পাওয়া ও কৃত্রিম সংকট তাদের উৎপাদন ব্যাহত করে। তুলা উন্নয়ন বোর্ড কৃষককে বীজ, সার ও বিপণনে সহায়তা করতে পারে, তবে উপজেলা পর্যায়ে সহজ পরামর্শ ও বীজপ্রাপ্তির ব্যবস্থা এখনো সীমিত।
উলিপুরের চরে পরীক্ষামূলক তুলা চাষ, ক্ষুদ্র জিনিং ও স্পিনিং সুবিধা, প্রাকৃতিক রংয়ের প্রশিক্ষণ এবং তাঁতপণ্যের বাজারসংযোগ তৈরি করা গেলে একটি টেকসই স্থানীয় মূল্যশৃঙ্খল গড়ে উঠতে পারে।
ফিচারটি ২০ এপ্রিল ২০২৬-এ প্রথম আলোয় প্রকাশিত মতামত ও তথ্যের ভিত্তিতে নতুনভাবে প্রস্তুত।





মন্তব্য