কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নে ছেলের ছুরিকাঘাতে মুনিরা বেগম (৫৬) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সরদার আলী (৬৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে উপজেলার খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন পলাশবাড়ি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মোস্তাকিন আলম শোভন (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন বলে এলাকাবাসীর দাবি। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে একাধিকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হলেও তিনি প্রতিবারই সেখান থেকে ফিরে আসেন। সম্প্রতি পুনরায় তাঁকে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেন তাঁর মা-বাবা। বুধবার ভোরে নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা তাঁকে নিতে বাড়িতে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শোভন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মায়ের বুকে আঘাত করেন। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বাবা সরদার আলীকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত শোভন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে বাড়িতে উপস্থিত নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা গুরুতর আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক মুনিরা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সরদার আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও খলিলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা এ ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মাদকাসক্তির ভয়াবহ প্রভাব সমাজ ও পরিবারের জন্য ক্রমেই বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।