প্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI দ্রুত দৈনন্দিন কাজ, ব্যবসা এবং জনসেবার অংশ হয়ে উঠছে। তথ্য বিশ্লেষণ, ভাষা অনুবাদ, রোগ শনাক্তকরণ, কৃষি পরিকল্পনা এবং সংবাদ তৈরির সহায়ক হিসেবে প্রযুক্তিটির ব্যবহার আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

AI-এর ভবিষ্যৎ শুধু মানুষের কাজ কেড়ে নেওয়ার গল্প নয়। বরং অনেক পেশায় পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় হবে এবং মানুষের দায়িত্ব সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধান, যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিকে সরে যাবে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে ডিজিটাল দক্ষতা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং AI টুল ব্যবহারের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তবে সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। ভুল তথ্য, পক্ষপাতপূর্ণ ফলাফল, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং অস্বচ্ছ স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই AI ব্যবহারে মানবিক তদারকি, নির্ভরযোগ্য তথ্য, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের জন্য বাংলা ভাষাভিত্তিক AI, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবার স্থানীয় সমাধান এবং দক্ষ জনবল তৈরির বড় সুযোগ রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকার ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে নিরাপদ প্রযুক্তি নীতি ও প্রশিক্ষণ গড়ে তুলতে পারলে AI কর্মসংস্থান কমানোর বদলে নতুন ধরনের কাজ ও সেবার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

প্রযুক্তির গতির সঙ্গে সমাজের প্রস্তুতি মিলিয়ে নেওয়াই হবে আগামী দিনের প্রধান পরীক্ষা। মানুষের নিয়ন্ত্রণে, ন্যায়সংগত ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহৃত AI-ই সবচেয়ে বেশি জনকল্যাণ তৈরি করতে পারবে।