উলিপুরের দুর্গাপুর ইউনিয়নের ১৩ বছর বয়সী সাজিদের স্কুলে থাকার কথা, কিন্তু পরিবারের প্রয়োজন তাকে অটোরিকশার স্টিয়ারিংয়ে বসিয়েছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে তার আয়েই চলে বাসাভাড়া, খাবার ও বাবার ওষুধের খরচ।
চার বছর বয়সে মাকে হারায় সাজিদ। পরে তার বাবা আবদুল বাতেন হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা ব্যয়ে পরিবারের জমিজমা বিক্রি হয়ে যায়। বর্তমানে কামালখামার বাজারের একটি ভাড়া দোকানঘরে বাবা-ছেলের বসবাস।
সাজিদ পড়াশোনায় ফিরতে চায়, কিন্তু পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হয়ে ওঠায় নিয়মিত স্কুলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়; দারিদ্র্যের কারণে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় শিশুরা পরিবহন, লেদ ও ঝালাইয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ছে।
শিশু অধিকারকর্মীদের মতে, পরিবারভিত্তিক আর্থিক সহায়তা, অসুস্থ অভিভাবকের চিকিৎসা, শিক্ষাবৃত্তি এবং প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা ছাড়া শিশুশ্রম কমানো কঠিন। স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ সাজিদের মতো শিশুদের আবার শ্রেণিকক্ষে ফেরাতে পারে।
প্রতিবেদনটি ১ মে ২০২৬-এ প্রথম আলোয় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নতুনভাবে প্রস্তুত।





মন্তব্য